person
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি

দেলাওয়ার হোসেন

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি

পরিচিতি

দেলাওয়ার হোসেন বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি। বর্তমান স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে যখন দুর্বার ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠেছিলো সেই আন্দোলনের সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন দেলাওয়ার হোসেন। এজন্য অবশ্য তাকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। দিনের পর দিন স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা পুলিশের রিমান্ডের নামে চরম নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ বছর তাকে কারাগারে কাটাতে হয়েছে।
school

শিক্ষা জীবন

দেলোয়ার হোসেন শালের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষাজীবন শুরু করেন। এখান থেকে পঞ্চম শ্রেণি শেষ করার পর তিনি বালাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৯৮ সালে তিনি কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে তার উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা শুরু করেন। বিজ্ঞানের ছাত্র দেলোয়ার হোসেন কৃতিত্বের সাথে ২০০০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নে ভর্তি হন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক শেষ করার পর দেলোয়ার হোসেন ঢাকায় বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন।
how_to_vote

রাজনৈতিক জীবন

পারিবারিকভাবেই দেলোয়ার হোসেনের সাংগঠনিক জীবনের যাত্রা শুরু হয়। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে থাকাবস্থায় তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী হন। তিনি ১৯৯৯ সালের ২৪ জুন সাথী শপত এবং ২০০২ সালের ১ অক্টোবর ছাত্রশিবিরের সদস্য শপথ গ্রহন করেন। তার সাংগঠনিক দায়িত্ব শুরু হয় নিজ এলাকার শহীদ আব্দুল হামিদ উপশাখার সেক্রেটারির দায়িত্ব দিয়ে। পরবতীতে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের বায়তুলমাল ও সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সাথী হিসেবে যোগদানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী কাজলা এলাকার একটি ইউনিটের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে কাজলা থানা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কাজলা শাখার দায়িত্ব পালন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

lock কারাগার ও রিমান্ড

২০১৩ সালে তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনে ভীত হয়ে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে। রিমান্ডের নামে পঞ্চাশেরও বেশি তাকে ডিবি অফিসে আটকে রেখে ইতিহাসের চরম নির্যাতনের মুখোমুখি করা হয়। শত নির্যাতনের মুখেও দেলোয়ার হোসেন ছিলেন অটল, অবিচল। মুমূর্ষু অবস্থায়ও তিনি তার আন্দোলন থেকে সরে আসতে রাজি হননি। দেশি-বিদেশি নানান চাপে সরকার শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করে নি কিন্তু কারাগারে আটকে রেখেছে প্রায় পাঁচ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে দেলোয়ার হোসেন বঞ্চিত হয়েছেন তার মৌলিক অধিকারগুলো থেকে। স্বৈরাচারী সরকার তাকে কারাগারে আটকে রাখার জন্য প্রায় ১০৭ টি মামলা দিয়েছে। এই মামলার বোঝা এখনো তাকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে একই সাথে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে শত নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন।